ব্রাজিলে অনুকূল আবহাওয়ায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ও হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৪-২৫ বিপণন মৌসুমে রেকর্ড শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সাপ্লাই কোম্পানি কোনাব। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দেশটিতে মোট শস্য উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টন, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টন বেশি। এছাড়া এটি এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২৬ লাখ টন বেশি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম।
প্রতিবেদনে কোনাব জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ব্রাজিলে শস্য আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ১৭ লাখ হেক্টরে পৌঁছতে পারে। এ সময় প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হতে পারে ৪ হাজার ৭৪ কেজি।
ব্রাজিল বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন রফতানিকারক দেশ। ব্রাজিলে ২০২৪-২৫ বিপণন মৌসুমে তেলবীজটির উৎপাদন হতে পারে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এরই মধ্যে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি থেকে ফসল সংগ্রহ শেষ হয়েছে। রেকর্ড উৎপাদনের ফলে সয়াবিন রফতানি কিছুটা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে রফতানি ১০ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
ব্রাজিলে ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে ১২ কোটি ৬৯ লাখ টন, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। প্রথম ধাপে ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ জমি থেকে ফসল সংগ্রহ শেষ হয়েছে, যা থেকে উৎপাদন হতে পারে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টন। দ্বিতীয় ধাপে উৎপাদনের পরিমাণ ধারণা করা হচ্ছে ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন।
কোনাব জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ভুট্টার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বেড়ে ৮ কোটি ৯৩ লাখ টন হতে পারে। রফতানির পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ টন ও মৌসুম শেষে ৭১ লাখ টন মজুদ থাকতে পারে।
ব্রাজিল চলতি মৌসুমে চাল উৎপাদন করতে পারে ১ কোটি ২১ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় ধান আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বেড়ে ১৭ লাখ হেক্টর হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭১ কেজি হতে পারে।
শীতকালীন ফসলের মধ্যে গমের আবাদ শুরু হয়েছে মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব ও পারানা অঞ্চলে। ২০২৫ সালের ফসল কাটার মৌসুমে গম উৎপাদন ৮৩ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
আবহাওয়া অনুকূল ও চাষাবাদ অব্যাহত থাকলে ব্রাজিল এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ শস্য উৎপাদন করতে পারে বলে মনে করছে কোনাব।